গবাদিপশুকে নিয়মিত কৃমিনাশক (Dewormer) না খাওয়ালে বিভিন্ন প্রকার কৃমির সংক্রমণ দেখা দিতে পারে, যা পশুর স্বাস্থ্য, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়। নিচে সম্ভাব্য সমস্যাগুলো বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. কৃমি দ্বারা সৃষ্ট প্রধান রোগ ও লক্ষণ:
ক. পেটের কৃমি (Roundworms, Tapeworms, Hookworms):
- লক্ষণ:
- ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি停滞 (খাওয়া সত্ত্বেও দুর্বলতা)।
- ডায়রিয়া বা রক্তমিশ্রিত মল।
- পশুর পেট ফুলে যাওয়া (Pot belly)।
- রক্তশূন্যতা (মাড়ি ও চোখ সাদা হয়ে যাওয়া)।
- দুধ বা মাংসের উৎপাদন কমে যাওয়া।
- ঝুঁকি: বাছুরের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
খ. ফুসফুসের কৃমি (Lungworms):
- লক্ষণ:
- শ্বাসকষ্ট, কাশি, নাক দিয়ে সর্দি পড়া।
- জ্বর ও দুর্বলতা।
- ঝুঁকি: নিউমোনিয়া বা শ্বাসতন্ত্রে স্থায়ী ক্ষতি।
গ. লিভারের কৃমি (Liver Flukes):
- লক্ষণ:
- পানি পেট ফোলা (Ascites)।
- জন্ডিস (চোখ ও মাড়ি হলুদ)।
- লিভার নষ্ট হয়ে মৃত্যু।
- ঝুঁকি: লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সার।
ঘ. ত্বকের কৃমি (Onchocerca):
- লক্ষণ:
- ত্বকের ঘা, চুলকানি ও গোটা।
২. অন্যান্য সমস্যা:
- বাচ্চার বৃদ্ধি ব্যাহত: কৃমি পুষ্টি শোষণ করে, ফলে বাছুরের স্বাভাবিক বিকাশ受阻।
- প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস: গাভীর গরম না আসা বা গর্ভপাত।
- দুগ্ধ উৎপাদন কমে যাওয়া: কৃমির সংক্রমণে দুধের পরিমাণ ২০-৩০% পর্যন্ত কমতে পারে।
- অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি: কৃমি পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় (যেমন: এনিমিয়া, সংক্রমণ)।
৩. প্রতিকার ও প্রতিরোধ:
- নিয়মিত কৃমিনাশক খাওয়ান: বছরে至少 ২-৪ বার (বর্ষাকাল前後 বিশেষ গুরুত্ব দিন)।
- সঠিক ডোজ: পশুর বয়স, ওজন ও প্রজাতি অনুযায়ী কৃমিনাশক নির্বাচন করুন (যেমন: Albendazole, Ivermectin, Levamisole)।
- চিকিৎসা পরিকল্পনা:
- বাছুর: জন্মের ১ মাস পর থেকে每 ৩ মাস পরপর।
- গাভী: প্রজননের前 ১ মাস ও বাচ্চা প্রসবের পর।
- খামার পরিচ্ছন্নতা: গোবর নিয়মিত পরিষ্কার করুন, পানি ও খাদ্য দূষিত হতে দেবেন না।
- কোয়ারেন্টাইন: নতুন পশু আনার পর最少 ২ সপ্তাহ আলাদা রেখে কৃমিনাশক দিন।
৪. সতর্কতা:
- একই কৃমিনাশক বারবার ব্যবহারে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ পাল্টান।
- কৃমিনাশক দেওয়ার ৩-৭ দিন পর পর্যন্ত পশুর দুধ বা মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলুন (ওষুধের রেসিডিউ ঝুঁকি)।
৫. জরুরি পরামর্শ:
- পশুর মলে কৃমির ডিম বা segments (টেপওয়ার্মের মতো) দেখলে立即 চিকিৎসা শুরু করুন।
- বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (১৬১২৩) বা স্থানীয় পশু হাসপাতাল থেকে সহায়তা নিন।